Loading...
136 Netaji Road, Khagra, MSD 9002194791 omkarmanagementbpc@gmail.com

Blog

#1518 - News Card
বেনারসের আকে বাঁকে
এইবার আমারা চলে এসেছি বিশ্বনাথের ভূমিতে। হ্যাঁ, বেনারস বা বারাণসী যা বলতে চান। এমন এক শহর যে শহরে যেদিকে তাকাবেন সেইদিকেই প্রাচীন গল্প মিলিয়ে রয়েছে। এই শহর ভারতের সবথেকে প্রাচীন শহর। যে শহরে গেলে নিজেকে আবার নতুন করে খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু সেই নিজেকে খুঁজতে গেলে আপনাকে বেরিয়ে পড়তে হবে বেনারসের গলিতে। এই 'বানারাস কি গালিয়া' অথবা বেনারসের এই আঁকাবাকা গলি আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য ধরণের রোমাঞ্চকর এডভেঞ্চারে।

কি ভাবছেন! যে নিজের রাজ্য থেকে বেরিয়ে অন্য একটা রাজ্য যাওয়া যতই হোক একটু জটিল। সে নিয়ে খুব ভাবনার কিছু নেই। আপনাদের পুরো ট্রিপ যাতে খুব সহজ এবং আরামদায়ক হয় সেই ব্যবস্থার দায়িত্ব আমাদের।

এবার কথা হলো কোথায় যাবেন এই শহরে? ঠিক কোন্ কোন্ জায়গা ঘুরলে শহরটাকে ঠিক করে চিনবেন ? বেশ তবে চলুন- বেনারস যাওয়ার জন্য আপনি যদি ট্রেন করতে চান সে সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে। তারপর আপনি ইচ্ছে করলে দিন দয়াল উপাধ্যায় স্টেশন অথবা বেনারস যে কোনো স্টেশন এ নামতে পারেন। স্টেশন এ নেমেই আপনি চাইলে সেখান থেকে লোকাল রিক্সা অথবা হোটেল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার গাড়ি আমরাই ঠিক করে দেবো। এরপর হোটেল পৌঁছে সকাল ৯-১০ টা নাগাদ চেক ইন করে আপনি আপনার প্রথম উদ্যেশে বেরিয়ে পড়তে পারেন। বেনারস নাম শুনেই যে কথাটি প্রথম মনে আসে গঙ্গার ঘাট সেই ঘাটে মন ভরে গঙ্গায় স্নান করা। গঙ্গার ঘাট এর কথায় মনে পড়ল হোটেল কিন্তু এই ঘাট থেকে কয়েক মিনিট এর হাটা পথ মাত্র তাই ইচ্ছে করলেই আপনি ঘাট এ এসে মন খুলে খোলা বাতাস উপভোগ করতে পারেন।

সকালে গঙ্গায় প্রথমদিন স্নান করেই হোটেলে গিয়ে তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন আপানার ভ্রমণের পরবর্তী লক্ষ্যে। সকাল থেকে এসে ঘুরে এতক্ষণে নিশ্চই পেট খাওয়ায় সন্ধান করছে, তবে চলুন এই ক্ষিদে মেটাতে আপনার পছন্দের কচুরি দিয়ে জল খাওয়ার সারা যাক। তবে এ কিন্তু বনারাস কি কচুরি এই কচুরি এখানে সবথেকে জনপ্রিয় জল খাওয়ার। তারপর এই যে টা পেটে যাবে সেটা হলো বেনারসের পান। উফ্ বনরাসওয়ালা পান অতুলনীয় এর জন্য আর অপেক্ষা করা যায় না। এরপর চাইলে আপনারা এক সুন্দর জল অভিযান এ বেরোতে পারেন। এই যে এত ঘাট, সংখ্যায় বললে, ৪৮ হ্যাঁ সেগুলো ঘুরবেন বোট করে। ঘাট থেকে বোট করে বেরিয়ে পড়বেন মাঝ গঙ্গায় ভেসে বেড়াতে। চাইলে শেয়ার বোট করতে ভাড়া করতে পারেন যেখানে হয়তো আপনাকে অন্য পর্যটকদের সাথে বোট এ ঘুরতে হবে অথবা যদি আপনি অপনার বন্ধু ও পরিবারের সাথে থাকেন তবে আপনি পার্সোনাল বোট সহজেই ভাড়া করতে পারবেন। বেশ প্রায় ঘণ্টা খানেক ঘুরে, প্রতেকটি ঘাট দর্শন করে এবং অবশ্যই অপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় জন্য মন ভরে ছবি তুলে ফিরে আসবেন ঘাটে। তারপর দুপুরের খাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়তে হবে।

এরপর যে জায়গায় যাবো সে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়াতে এই বিষয়ে অজস্র পোস্ট এবং সবাই এই এক অভিজ্ঞতার কথা বলতে উৎসুক,ঘাটের সন্ধ্যা আরতির যে এক আলাদা অনুভূতি তা শব্দে প্রকাশ করার নয়। কিন্তু এই আরতি দর্শন করতে আপনাকে আরতির ঠিক ১ ঘণ্টা আগে ঘাটে গিয়ে উপস্থিত হতে হবে। আস্তে আস্তে বুঝতে পারবেন যতো আরতির সময় এগিয়ে আসছে সকলে ঘাটে এসে ভিড় করছেন। ঠিক সন্ধ্যে ৬ টায় আরতি শুরু হবে এবং সেই কিছু সময় আপনি বুঝতে পারবেন যে হ্যাঁ এই অনুভূতি হয়তো বিশ্বে কোথায় আর হবে না। আরতি শেষ করে গঙ্গায় প্রদীপ ভাসিয়ে এইবার আস্তে আস্তে আবার হোটেলে ফেরার প্রস্তুতি নিতে পারেন। ঘাট থেকে বেরিয়ে রাস্তায় পৌঁছে কোনো একটি ভালো মিষ্টির দোকান দেখে রাবরি কিনে খেতে খেতে হোটেল এর দিকে রওনা দিতে পারেন। অবশ্য যদি নির্দিষ্ট কোনো দোকান জানতে চান তবে দশস্বমেধ ঘাটে থেকে ওপরে উঠে সামনের গলিতে এক বাঙালির দোকান আছে। সেই দোকানের রাবড়ি একবার খেলে প্রত্যেকদিন সেই দোকানেই রাবড়ি খেতে আসবেন।

এরপর হোটেল এ গিয়ে বিশ্রাম করে রাতে ডিনার টা তাড়াতাড়ি সেরে নিয়ে পড়ের দিন সকালে মন্দির দর্শনে বেরিয়ে পড়তে হবে। সকাল সকাল বেরিয়ে প্রথমে বেনারাস হিন্দু ইউনিভার্সিটির campus এ বিশ্বনাথ মন্দির এর আদলে যে নিউ বিশ্বনাথ মন্দির তৈরি হয়েছে সে টি দেখে ক্যাম্পাস এর ফ্যামোশ মিল্কশেক খেয়ে এবং আশেপাশে বেশ অনেক দোকান আছে যেখানে পছন্দমতো খাওয়ার খেয়ে বেড়িয়ে পড়তে হবে দুর্গা মন্দির দর্শনে। এরপর দুর্গা মন্দির থেকে সংকাটমোচন মন্দির এবং তারপর রামগার ফোর্ট। এই রামগর ফোর্ট এর কাছে একটি বিখ্যাত ল্যাসির দোকান 'ব্লু লাস্যী' ‍ থেকে লাস্যী খেয়ে, তারপর পছন্দমত একটি হোটেল বা রেস্তোরাঁতে দুপুরের লাঞ্চ সেরে বেরিয়ে পড়তে হবে সার্নাথ দর্শনে।
তারপর এই সমস্ত জায়গা ঘুরে ফিরে এসে সন্ধ্যায় কাল ভৈরব মন্দিরে পূজা দেওয়ার উদ্যেশে বেড়িয়ে পড়তে হবে। তারপর রাতে সময়মতো চলে যেতে হবে বিশ্বনাথ মন্দিরে সয়ন আরতি দর্শন। সে ও এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা, সকলে যখন একসাথে মহাদেবের আরতির মন্ত্র বলবে নিজেকে সেই মুহূর্তে হারিয়ে যেতে দেখবেন।
তারপর রাতে খাওয়ার খেয়ে ফিরে এসে বিশ্রাম নিয়ে পরর্বতী লক্ষ্যে বেরোনোর ব্যাবস্থা করতে হবে।

ঠিক রাত্রী ২:৩০ - ৩ টে নাগাদ বেড়িয়ে পড়তে হবে বিশ্বনাথ মন্দিরে ভোরবেলা পূজা দেওয়ার উদ্যেশে। কেন এই মাঝরাতে তাই তো? কারন ঠিক ভোর ৪-৫ নাগাদ সময়টুকু বিশ্বনাথ কে সামনে থেকে দর্শন করার সুযোগ পাওয়া যায়। ভোরবেলা পূজা শেষ করে হোটেলে ফিরে এসে সময় মতো বেড়িয়ে পড়তে হবে অন্নপূর্ণার মন্দিরে দুপুরে প্রসাদ খেতে। তারপর মন্দির থেকে বেড়িয়ে এবার শুরু করা যেতে পারে বেনারসের বিখ্যাত বেনারসী শাড়ির বাজার। ঘুরে ঘুরে দেখতে পারেন সমস্ত শহর। তারপর অবশ্যই কাশী চাট ভান্ডার এ তাঁদের বিখ্যাত এবং সুস্বাদু চাট খেতে যাওয়া চায়। তারপর আস্তে আস্তে বেনারসের সমস্ত লোভনীয় খাওয়ার উপভোগ করে এবং তাঁর মধ্যে বাবা ঠান্ডায় এর দোকান এর ঠান্ডায় থাকা চায়। এরপর হোটেলে ফিরে এসে, পরেরদিন এর প্রস্তুতি।
CodePen - Floating Call / WhatsApp